পঞ্চম বর্ষ / অষ্টম সংখ্যা / ক্রমিক সংখ্যা ৫০

বুধবার, ১ নভেম্বর, ২০১৭

<<<< সম্পাদকীয় >>>>

কালিমাটি অনলাইন / ৫০


গত ২৬শে অক্টোবর ভারতের একটি বহুল প্রচারিত হিন্দী সংবাদপত্র ‘দৈনিক ভাস্কর’এ একটি সংবাদ পড়ে খুব ভালো লেগেছিলবিষয়টা এমন কোনো অভিনব  নয়, কিন্তু যে কোনো ঘটনার সঙ্গেই যেমন স্থান-কাল-পাত্রর একটা ব্যাপার থাকে, ঠিক সেই কারণেই এই ঘটনাটা আমাকে এখানে পুনরাল্লেখ করার উৎসাহ যোগালো। যাঁরা হিন্দী চলচ্চিত্রের অনুরাগী, তাঁরা সবাই একদা চলচ্চিত্র নায়িকা টুইঙ্কল খান্নার নামের সঙ্গে পরিচিত। অনেকে নিশ্চয়ই তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রও দেখেছেন। তবে টুইঙ্কল খান্না নিজের নামে যতটা পরিচিত, তার থেকে হয়তো বেশি পরিচিত তাঁর একদা সুপারস্টার বাবা-মা রাজেশ খান্না ও ডিম্পল (কাপাডিয়া) খান্নার কন্যা রূপে। এখন অবশ্য তিনি তাঁর স্বামী বর্তমান সুপারস্টার অক্ষয়কুমারের সূত্রেও সুপরিচিত। কিন্তু এসব উল্লেখযোগ্য পরিচিতির বাইরেও তিনি মাঝে মাঝেই সংবাদপত্রের পাতায় উঠে আসেন তাঁর বিভিন্ন বিষয়ে অত্যন্ত সাহসী ও যুক্তিপূর্ণ অভিমত ও মন্তব্যের কারণে। যেমন মাস কয়েক আগে হিন্দী চলচ্চিত্রের নামী প্রযোজক করণ  জোহরের একটি ছবিতে অত্যন্ত ভক্তি ও নিষ্ঠার আবহাওয়ায় প্রদর্শিত হয়েছিল স্বামীর কল্যাণ কামনায় হিন্দুধর্মে বিশ্বাসী স্ত্রীদের করওয়া চৌথ ব্রত পালনের চিরাচরিত প্রথাআরও অন্যান্য ব্রতর মতোই এই ব্রত উপলক্ষ্যেও স্ত্রীরা সারাদিন নির্জলা উপোস করে থেকে রাতে আকাশে চাঁদের উদয় হলে সেই চাঁদ ও স্বামীর মুখমন্ডল আটা-ময়দা চালার চালুনির মধ্য দিয়ে দর্শন করার পর ব্রত ভঙ্গ করেন। টুইঙ্কল ঠিক এই ব্যাপারটাকেই উল্লেখ করে বলেছিলেন যে, এইসব ব্রত পালনকে এভাবে গৌরাবান্বিত করে দেখানোর আদৌ কোনো যৌক্তিকতা নেই, প্রয়োজনও নেই। সারাদিন অনাহারে থেকে কারও কোনো প্রাপ্তিরও আদৌ সম্ভাবনা নেই। বরং মহিলাদের প্রয়োজন পুষ্টিযুক্ত আহারের। সেই প্রয়োজন মেটানোর জন্য সবাই কতটা আগ্রহী ও যত্নবান? বিশেষত অভাবী ও দরিদ্র মহিলাদের জন্য কেউ কি কিছু করার কথা ভেবেছেন?

গত ২৬শে অক্টোবরের সংবাদপত্রের বিষয়টা অবশ্য আলাদা। সেখানে টুইঙ্কলের একটি ছবি মুদ্রিত হয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, টুইঙ্কল মেঝেতে ছড়ানো একগাদা বইয়ের মাঝখানে বসে আছেন জুতো পড়ে। এবং শুধু তাই নয়, তিনি কোনো মোড়া বা টুলের পরিবর্তে বসে আছেন একথাক বইয়ের ওপর। খবরে জানা গেল, একটি ফ্যাশান ম্যাগাজিনের জন্য তিনি এই ছবিটি শ্যুট করিয়েছিলেন এবং তিনি নিজেই তা কোনো এক সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছিলেন। ব্যাস আর দেখতে হলো না, সরস্বতীর বরপুত্র-কন্যারা ঝাঁপিয়ে পড়লেন ‘ট্রোলিং’এ। তাঁরা রীতিমতো রাগ প্রকাশ  করে লিখলেন, “আমাদের দেশে বইয়ের পুজো করা হয়, বইকে স্বয়ং সরস্বতী মনে  করা হয়। আর আপনি সেই বইয়ের ওপর জুতো সহ বসে ফটো শ্যুট করেছেন? আপনার লজ্জিত হওয়া উচিৎ!” এর উত্তরে টুইঙ্কল অত্যন্ত নম্র ভাবে লিখেছেন  সেইসব অতি অল্পে ক্রোধিত ‘ট্রোলার’দের উদ্দেশ্যে, “আমার পা একটি টুলের ওপরে রাখা আছে, বইয়ের ওপরে নয়, কেননা আমি চাই না যে আমার পায়ের  ধুলো বইয়ের কভারে লাগুক। এছাড়া আমার বইয়ের ওপর বসতে, বইয়ের সঙ্গে শুতে, এমনকি বাথরুমে নিয়ে গিয়ে পড়তে কোনো সমস্যা নেই”। সেইসঙ্গে তিনি সংযোজন করেছেন, “বুদ্ধির দেবতা তখনই আপনার কাছে আসবেন, যখন আপনি পড়বেন। পুজো করে তা সম্ভব নয়”।

টুইঙ্কলের এই অভিমতের পরে এই প্রাসঙ্গিকতায় আর কোনো অভিমত প্রকাশ করার কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমি বলে মনে করি না। তাই এখানেই এবারের সম্পাদকীয় লেখার ইতি টানছি।

সবাইকে জানাই হৈমন্তিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।




নভেম্বর সংখ্যা ‘কালিমাটি অনলাইন’ ব্লগজিনের জন্য সম্পাদকীয় লেখা দিন দুয়েক আগেই শেষ করেছিলাম। তখন ভাবতেও পারিনি যে, সম্পাদকীয়তে পুনশ্চ সংযোজন করতে হবে। গতকাল সকালে ঘুম থেকে উঠেই দুঃসংবাদটা পেলাম, আমাদের অতি আপনজন বিশিষ্ট কবি ও গদ্যকার বারীন ঘোষাল, আমাদের সবার প্রিয় বারীনদা, প্রয়াত হয়েছেন ২৯শে অক্টোবর রাত ১টা ১০ মিনিটে। দিন কয়েক  আগেই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে জামশেদপুরের টাটা মেইন হসপিটালে ভর্তি হয়েছিলেন। শারীরিক অবস্থা সত্যি সত্যিই ভালো ছিল না। কিন্তু এর আগেও বেশ কয়েকবার তিনি সাংঘাতিক অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, আবার আমাদের সব আশঙ্কাকে মিথ্যে প্রমাণিত করে সুস্থ হয়ে ফিরেও এসেছেন। আর তাই এবারও আমরা আশঙ্কিত হলেও মনের মধ্যে একটা আশার আলো জ্বেলে রেখেছিলাম যে, বারীনদা এবারেও জিতে যাবেন, তিনি আবার ফিরে আসবেন প্রতি  বারের মতোই। কিন্তু বাস্তব বড় নির্মম ও নিষ্করুণ। বারীনদা এবার আর সুস্থ হয়ে  আমাদের কাছে ফিরে আসতে পারলেন না। তাঁর মরদেহের শেষযাত্রায় সামিল হয়ে তাঁকে আমরা রেখে আসতে বাধ্য হলাম নির্জন একাকীত্বে। এখন থেকে বারীনদা আর আমাদের সঙ্গে সাক্ষাতে কোনো কথা বলবেন না। আমাদের যৎসামান্য লেখা পড়ে তিনি আর তাঁর ভালোলাগা বা না-লাগার কথা বলবেন না। কোনো পরামর্শ বা উপদেশ অথবা আলোচনা, কিছুই করবেন না। বরং এখন তাঁর হয়ে আমাদের সঙ্গে নিরন্তর কথা বলে যাবে তাঁর লেখা অজস্র কবিতা, গল্প, ঝুরোগল্প, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, সমালোচনা এবং সেইসঙ্গে অবশ্যই তাঁর লেখা অসংখ্য চিঠিপত্র। আর এভাবেই তিনি শারীরিক ভাবে হারিয়ে গেলেও আমাদের মননে চিন্তনে সজীব তরতাজা থেকে যাবেন চিরদিন।

আমাদের প্রণত শ্রদ্ধা নিবেদন করি তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে।

আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের ই-মেল ঠিকানা :
kajalsen1952@gmail.com / kalimationline100@gmail.com 

দূরভাষ যোগাযোগ :           
08789040217 / 09835544675
                                                        
অথবা সরাসরি ডাকযোগে যোগাযোগ :
Kajal Sen, Flat 301, Phase 2, Parvati Condominium, 50 Pramathanagar Main Road, Pramathanagar, Jamshedpur 831002, Jharkhand, India