পঞ্চম বর্ষ / দশম সংখ্যা / ক্রমিক সংখ্যা ৫২

শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

<<<< সম্পাদকীয় >>>>

কালিমাটি অনলাইন /



   
দিন কয়েক আগে একটি ‘শর্টফিল্ম’ দেখার সুযোগ হলো ইউ টিউবের সৌজন্যে। মূল ছবিটি দক্ষিণ ভারতীয় ভাষায় নির্মিত। হিন্দিতে ‘ডাব’ করা হয়েছে। ছবির নাম ‘এডাল্টস ওনলি’। বলা বাহুল্য, ছবিটির ভাবনা আমাকে এতটাই আলোড়িত করেছে যে, ‘কালিমাটি অনলাইন’ ব্লগজিনের সম্পাদকীয় কলমে প্রিয় পাঠক-পাঠিকাদের সঙ্গে ‘শেয়ার’ না করে পারলাম না। ছবির গল্প উপস্থাপিত হয়েছে এইভাবে, একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে বাবা-মা ও বছর বারো-তেরোর এক কিশোরীর দৈনন্দিন সাদামাটা জীবন তার নিজের নিয়মেই অতিবাহিত হচ্ছিল। মা যথারীতি ব্যস্ত রান্নাঘরে, বাবার ব্যস্ততা বসার ঘরে টেবিল চেয়ারে অফিস থেকে বয়ে আনা ফাইলের অসম্পূর্ণ কাজে অথবা কর্মক্ষেত্রে আরও উন্নতির অভিলাষে প্রয়োজনীয় পড়াশোনায়। আর কিশোরী আর পাঁচটা স্কুল-ছাত্রীর মতোই অন্য একটি ঘরের মেঝেতে বই-খাতা ছড়িয়ে ছিটিয়ে স্কুলের ‘হোমটাস্ক’এ নিমগ্ন। কিন্তু তার মগ্নতা যে নিতান্তই অগভীর সেই মুহূর্তে, তা বোঝা গেল একটু পরেই। কিশোরী খুব সন্তর্পণে পড়া ছেড়ে উঠে ঘর থেকে বেরিয়ে প্রথমে রান্নাঘরে মায়ের ব্যস্ততা আন্দাজ করল, তারপর চটপট দেখে নিল বাবার বসার ঘরে ব্যস্ততা। মা ও বাবার এই নিমগ্নতার সুযোগে সে এবার আর একটি ঘরে প্রবেশ করল। এই ঘরটি আপাতত ফাঁকা এবং সে ঘরে একটি কম্পিউটার আছে। কিশোরী চেষ্টা করল ঘরের ছিটকিনি দেবার। কিন্ত তার শরীর যথেষ্ট দীঘল না হওয়ায় ছিটকিনি পর্যন্ত হাতের আঙুল পৌঁছল না। অগত্যা ঘরের দরজা ভেজিয়ে রেখেই সে বসে পড়ল কম্পিউটারে। তারপর ইন্টারনেট চালু করে তার উদ্দিষ্ট লিঙ্কে ক্লিক করল। মনিটরের পর্দায় দেখা গেল লেখা আছে ‘এডাল্টস ওনলি’। কিশোরী রীতিমতো আগ্রহ ও উত্তেজনায় টানটান হয়ে গেল।

এরপর যা ঘটল, তা সেই ছবিকে উত্তীর্ণ করল সম্পূর্ণ অন্য এক মাত্রায়। একটু পরেই  বাবা হয়তো কাজ বা পড়াশোনার একঘেয়েমির জন্য রান্নাঘরে চায়ের ‘অর্ডার’ পেশ করল। মা এক কাপের বদলে তিন কাপ চা তৈরি করে প্রথমে মেয়ের বাবাকে দেওয়ার পর মেয়েকে দেবার জন্য সেই ঘরে প্রবেশ করল। আর প্রবেশ করেই দেখল, মেয়ে ঘরে নেই। কোথায় গেল? কোথায়? যে কোনো কারণেই হোক সন্দেহ হওয়ায় তড়িঘড়ি কম্পিউটার ঘরের বন্ধ দরজায় এসে দাঁড়ালো। কষ্ট করতে হলো না, সামান্য ঠেলা দিতেই দরজা খুলে গেল। আর মা বিস্ফারিত চোখে হতভম্ব হয়ে দেখল তার মেয়ের গোপন কার্যকলাপ। কিশোরী আচমকা এই অপ্রস্তুত অবস্থার মুখোমুখি হয়ে ভেবে উঠতে পারল না, সে এখন কী করবে! পালানোর তো পথ নেই! ধরা পড়ে  গেছে সে। মা চিৎকার করে বাবাকে ডাকল, এসে দেখে যাও তোমার মেয়ের কান্ড! বাবাও দেরি করল না। মেয়ের কান্ড দেখতে এসে তাজ্জব হয়ে দেখল মনিটরের পর্দা। ঐটুকু মেয়ে এইসব দেখছিল? এত সাহস? এত আস্পর্ধা? জীবনটা তো পুরো কেরোসিন হয়ে গেল মেয়ের! না, এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না! মেয়ের এই অধঃপতন কিছুতেই মার্জনা করা যায় না! সুতরাং শুরু হলো একই সঙ্গে মা ও বাবার সমবেত প্রহার। অসহায় কিশোরীর তখন মার খাওয়া আর কান্না ছাড়া আর কিছু করারও তো নেই!

ছবির এতটা দৃশ্য দেখার পর যখন দর্শক হিসেবে আমার মনে হচ্ছে, সঙ্গত কারণেই  মা ও বাবার মেয়ে সম্পর্কে এই দুশ্চিন্তা খুবই স্বাভাবিক, ঠিক তখনি আমাদের সামনে উদ্ঘাটিত হলো অন্য এক অভাবিত সত্য। মা ও বাবার সংলাপে জানা গেল, কিশোরী ইন্টারনেটে যে লিঙ্কটি খুলে তন্ময় হয়ে দেখছিল, তা আদৌ কোনো ‘পর্ণো সাইট’ নয়, বরং আমাদের গণভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যেসব বৃহৎ অট্টালিকায় বসে দেশের ভূত বর্তমান ভবিষ্যত সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং রীতিনীতি নির্ধারণ করেন, তারই একটি ‘সেশনে’র ‘লাইভ টেলিকাস্ট’। মা ও বাবার অভিমত, সেখানে যেসব  ঘটনা প্রতিদিন ঘটে, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যেসব আচার আচরণ করেন, তাঁদের মুখ থেকে যেসব বুলি মাঝে মাঝেই নির্গত হয়, তা যদি নাবালক-নাবালিকারা দেখে, তবে  তাদের ভবিষ্যৎ তো বিলকুল অন্ধকার! ছোটরা তাঁদের অনুসরণ করে শিক্ষিত,  মার্জিত, শোভন ও সুন্দর হয়ে উঠবে কীভাবে! আর তাই সরকারের উচিৎ এইসব ‘টেলিকাস্ট’ শুধুমাত্র বড়দের জন্য চিহ্নিত ও নির্দিষ্ট করা। নিষিদ্ধ করা উচিৎ কচিকাঁচাদের জন্য। কেননা এসবই তো আসলে ‘ফর এডাল্টস ওনলি’!  

শরতকালের সূচনা আগেই হয়েছে। দেখতে দেখতে হাজির শারদোৎসবও। আর উৎসব  মানেই মেলা। এই উৎসব ও মেলাকে কেন্দ্র করে আমাদের পারস্পরিক মেলবন্ধন আরও ঘনিষ্ঠ ও ঋজু হোক, এই কামনা করি। সবাই ভালো থাকুন, আনন্দে থাকুন।


      
     
আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের ই-মেল ঠিকানা :

দূরভাষ যোগাযোগ :           
0657-2757506 / 09835544675
                                                         
অথবা সরাসরি ডাকযোগে যোগাযোগ :
Kajal Sen, Flat 301, Phase 2, Parvati Condominium, 50 Pramathanagar Main Road, Pramathanagar, Jamshedpur 831002, Jharkhand, India

      

1 কমেন্টস্:

  1. বর্তমানে অনেক 'টেলিকাস্ট'-এর উপর 'ফর দ্য এডাল্টস ওনলি' আরোপ করা দরকার। বিশেষ করে বাংলা একটি জনপ্রিয় সিরিয়ালে শিশু-খলচরিত্রটিকে। এটা ভীষণ দূষণ ছড়াচ্ছে।

    উত্তরমুছুন