পঞ্চম বর্ষ / অষ্টম সংখ্যা / ক্রমিক সংখ্যা ৫০

মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

<<<< সম্পাদকীয় >>>>

কালিমাটি অনলাইন / ৪২


শেষ হলো ২০১৭ কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা। এটা ছিল বইমেলার ৪১তম বছর। বিগত কয়েক বছর ধরে আমরা ঠিক এই সময় মুদ্রিত ‘কালিমাটি’ পত্রিকার একটি সংখ্যা প্রকাশ করে থাকি। বস্তুত ১০০তম ‘কালিমাটি’ প্রকাশের পর আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, এবার থেকে বছরে একটি মাত্র সংখ্যা প্রকাশ করা হবে এবং সেই  সংখ্যাটি কোনো সাধারণ সংখ্যা নয়, বরং কোনো একটি বিষয় বা ভাবনার ওপর বিশেষ সংখ্যা। এভাবেই গত ২০১৫ কলকাতা বইমেলায় প্রকাশ করেছিলাম ১০১তম সংখ্যা,  বিষয় ছিল ‘পরকীয়া’তারপর ২০১৬ কলকাতা বইমেলায় ১০২তম সংখ্যা, বিষয় ‘সমকামিতা ও রূপান্তরকামিতা’আর এবছর ২০১৭ কলকাতায় প্রকাশিত হলো ১০৩তম সংখ্যা, বিষয় ‘অতিপ্রাকৃত’এখানে আর একটি কথা উল্লেখ করা যেতে পারে, ‘কালিমাটি’ পত্রিকার প্রথম সংখ্যা থেকে ১০১তম সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল ‘কালিমাটি প্রকাশনা’ থেকে। ১০২তম সংখ্যা থেকে ‘কালিমাটি’ প্রকাশের দায়িত্ব গ্রহণ করে ‘সৃষ্টিসুখ প্রকাশন’। 

প্রসঙ্গত এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করছি, আমরা ‘কালিমাটি’ ১০৩তম সংখ্যায় আলোচনার জন্য কেন বেছে নিয়েছি অতিপ্রাকৃত বিষয়টিকে। এবং এই সূত্রেই    উদ্ধৃত করছি পত্রিকার সম্পাদকীয় বক্তব্য।

“ভূত-ভবিষ্যত-বর্তমান, জীবনের এই তিনটি পর্যায়ে আমরা নিজেদের অজান্তেই সামিল হয়ে যাই। কিন্তু শক্তি অর্থাৎ শরীরের ভেতরের শক্তি এবং শরীরের বাইরের শক্তি, এই দুই বিমূর্ত অনুভবের কাছে আমরা কীভাবে সামিল হতে পারি! যেমন যতদিন পর্যন্ত ভাইরাসের অস্তিত্ব আমাদের গোচরের বাইরে ছিল, আমরা তাকে মেনে নিতে পারিনি। প্রমাণের অপেক্ষায় থেকেছি। আসলে অপ্রাকৃত বা অতিপ্রাকৃত, ইংরেজিতে যাকে ‘সুপারন্যাচারাল’ বলা হয়, এই বিষয়টি এখনও পর্যন্ত আমাদের সবার কাছেই রহস্যময় ও কুয়াশাচ্ছন্ন। আবার অতিপ্রাকৃত বলতে সাধারণত দুটি বিষয়ের ভাবনা মাথায় আসে – ভূত ও ঈশ্বর। বিশেষত এই দুই অশরীরীকে অধিকাংশ মানুষই ভয় করেন। আর ভয় থেকেই আসে ভক্তি। আসলে আমরা সবাই ভয় পেতে ভালোবাসি।

এই ধরুন শরীরের অবয়বের বাইরে যে শরীরীবোধ আছে, যা ধরেও ঠিক ধরতে পারা যায় না; আবার যে ভয়ের প্রতি আমরা আকৃষ্ট হই, তার কূল কিনারা খুঁজে না পেলেও মন অনেক সময় তা বিশ্বাস করতে চায়। এই যেমন কোনো গরু আকাশে উড়বে, এটা নিতান্তই অবাস্তব; কিন্তু গরু আকাশে উড়তে গেলে যা যা প্রয়োজন, তা সবই বাস্তবের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ অভ্যাসগত ভাবে যা কিছু আমরা চাক্ষুস করি, তাই আমরা বিশ্বাস করি। কিন্তু অবিশ্বাসেরও অনেক উপাদান বাস্তব দিয়েই সৃষ্টি করা হয়।

আবার দেখুন স্টকহোমে সংরক্ষিত ডেভিল’স বাইবেল, ন্যাক্রোম্যানসি, নাইট মেয়ারস প্ল্যানচেট, উইচক্র্যাফট – এসবের তাৎপর্যই বা কী! অথবা এই অদ্ভুত জগত না থাকলেও যদি কোনো তরঙ্গদৈর্ঘ্য থাকে, তারাই বা কীভাবে শক্তি বন্টন করে! অনেকেরই বিশ্বাস আত্মা ছিল এবং আছে। কিন্তু ভূত মানে তো অতীত, আর আত্মা মানে এক্টোপ্লাজিমিয় বায়বতা! বিজ্ঞান এসব মানে না, স্বীকার করে না। কারণ এর কোনো ব্যাখ্যা নেই, প্রমাণ নেই। অথচ এই যে সব ‘সুপারন্যাচারাল’ ধারণা বা ‘কনসেপ্ট’, যা বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিকোণে কখনই গ্রহণযোগ্য নয়, তা কিন্তু মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে চলেছে মানবসভ্যতার সেই প্রাকপর্ব থেকেই। আর তাই স্বাভাবিক কারণেই মনুষ্যসৃষ্ট যে কোনো সৃজনেও তার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়  শিক্ষা, সাহিত্য, কলা, সংস্কৃতি, ধর্ম, জীবনচর্যা, প্রথা, আচার আচরণ – সর্বত্রই।

আর ঠিক এই অবস্থানে দাঁড়িয়ে ‘কালিমাটি’ পত্রিকার ১০৩তম সংখ্যায় আলোচনার জন্য আমরা বেছে নিয়েছি ‘অতিপ্রাকৃত’ বিষয়টিকে। এই সংখ্যায় মাননীয় লেখকেরা তাঁদের জ্ঞান, পান্ডিত্য, অভিজ্ঞতা ও উদার স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গিতে বিষয়টির গভীরে প্রবেশ করে গবেষণামূলক অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ করেছেন এবং প্রবন্ধ, নিবন্ধ, গল্প ও কবিতার আঙ্গিকে তা পরিবেশন করেছেন। আশাকরি আমাদের এই প্রয়াস আপনাদের ভালো লাগবে”

  
আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের ই-মেল ঠিকানা :

দূরভাষ যোগাযোগ :           
0657-2757506 / 09835544675
                                                         
অথবা সরাসরি ডাকযোগে যোগাযোগ :
Kajal Sen, Flat 301, Phase 2, Parvati Condominium, 50 Pramathanagar Main Road, Pramathanagar, Jamshedpur 831002, Jharkhand, India

      

1 কমেন্টস্: