পঞ্চম বর্ষ / অষ্টম সংখ্যা / ক্রমিক সংখ্যা ৫০

বুধবার, ১ নভেম্বর, ২০১৭

বহতা অংশুমালী

এয়ার বি.এন.বি.

মাংস শুকোতে কত দিইইন লাগলো
তারপরে অবাধ আলো বান আনলো চোখের কোটরে
কানের গর্তে  হু হু গান আনলো হাওয়া
ভীষণ আরাম এলো সাত্ত্বিক কংকালে
এখন নতুন করে পত্তনে যাবো না
হাড়ে বাতাস লাগাবো
টাকাগুলো পুঁতে দিতে বলো?
টাকাকটা পাখি করে দাও
ভেসে নিক মৃত সমুদ্রের প্লবতায়
উড়ে যাক দূর পর্তুগালে
এয়ার বি.এন.বি. তে খুঁজুক সে দাম দিয়ে
একটি রাতের জন্য ঘর
দারুচিনি দ্বীপের ভিতর 

তোমার বাড়ির ভিতে আমার যে শব পোঁতা আছে
সেও এতদিনে গাছ হলো
সেও কত প্রাণে রূপে টুকরো টুকরো উঠে বসে আবার জীবনে
আনোখা অমৃত ওঠে দিনান্তে মন্থনে  
চলো দুজনেই তার নুন চেটে খাই
ধীর অবহিত পায়ে কলঘরে যাই
শুধু এ কথাই

খামোকাই ভালোবাসি ভালোবাসি বলতে দেবো না


দূর থেকে তোমাকে সন্তানের খবর জানাই

দূর থেকে তোমাকে সন্তানের খবর জানাই
তুমি ভুলে গেছো, ভুলে গেছো
ন’ মাসে, কান্না তার সমাপ্ত হয় নি
আরো যন্ত্রণায়, আমি সুপটু অন্তঃসত্ত্বায়
নীচে পাকঘরে বসে থাকি,
যে বড়ি হাতের সুখে, যে বড়ি কেমন যেন পুরনো বৈধব্যের মতো সাদা
তার পাকপ্রণালীতে চালকুমড়ার নাম লিখে রাখি
শাক বুনি, খাই,
ন’ মাসে কান্না তার সমাপ্ত হয় নাই  

বহুদিন চলে গেলো, মায়ের পেটের অন্ধকার
সে না হয় আরো কিছু পেলো, আমরা দুজনেই
শান্ত নরম অন্ধকারে, দুপুরের আধো ঘুমে
এপাশ ওপাশ করি বারেবারে
সন্তান আমার
যোনিপথ আলগা করে খুলে দেখে,
এই পৃথিবীকে
পছন্দ কি হয়?
বড় অনিশ্চয়
বারোমাস মিথোজীবিতায়
আমাদের কেটে গেলো
দূর থেকে তোমাকেই সন্তানের খবর দিয়েছি
তুমি তার মুখ এসে দেখো
নাম রেখো


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন