পঞ্চম বর্ষ / অষ্টম সংখ্যা / ক্রমিক সংখ্যা ৫০

বুধবার, ১ নভেম্বর, ২০১৭

পৃথা রায় চৌধুরী

প্রথাগত

মন্দিরে মৃতদেহ ঢুকবে না,
সামনে দিয়ে পেরিয়ে গেছে
ফুল, মালা, ধূপের ধোঁয়া।

ঠাকুরের ব্যক্তিগত বারান্দায়
নিঃসাড়ে ভেজা পায়ের পাতা
শেষ ফেলা নিঃশ্বাস পঞ্চপ্রদীপে
ধুয়ো তুলেছে, দুঃখ পেয়ো না।

বোঝা গেছে, বিগ্রহের হাসিতে
বৃষ্টি ভিজলে চোখে আসা খুন
পর্দা সরিয়ে সাহসী ছুঁয়ে দেয়।

সন্ধ্যাপ্লাবন প্রতি ঘাসে, কাঁকরে
লেডিস ছাতা হাই হিলের আদরে,
জানো, জানো মানুষ, তুমি জানো
আলাদা, একা... একা একেবারে।


কনক্ল্যুশান

সন্ধানে তোমার হৃদস্পন্দন...
তুমি টের পাও না,
সমান সমান পথে হেঁটে গেছি
অবিরত ওই ঘূর্ণিঝড়ের আবর্তে।

তুমি যখন স্থানীয়ের পক্ষে গলা ফাটাতে,
ধ্বজা ওড়াতাম ব্র্যান্ড নেমের;
জিতে যেত যদিও আমার কনকনে ঠাণ্ডা জেদ।
ঠোঁটের ঘেরাটোপে জড়াতে
ঠাণ্ডা পানীয়ের বোতলের ঠোঁট,
ঠিক সেভাবেই, যেভাবে...

সশব্দে পেরিয়ে যেত রেলের প্রেত,
কামিজের কোণা টেনে
বসিয়ে রাখতে সেই পাটকিলে বেঞ্চে।
সটান শোয়া অবস্থায়, লাল টি-শার্ট,
গেরুয়া সিক্স পকেট পাজামা।

লজ্জা পেতে না এভাবে আসতে।
আচ্ছা, প্রেমিকার সাথে সেখা করতে এলেও
সাজুগুজু করার কথা তোমার মাথাতেই আসতো না।

জানতে, যেমনই থাকো,
বিড়িই কামড়াও, কি চ্যান্সেলার,
দেখতাম শুধু তোমার... তোমার... তোমার... কী যেন?
কিই বা দেখতাম? রূপ? নাহ্‌... গুণ?
ধুস্‌! তবে... নাহ্নাহ্‌, শুধুই জানতাম, ভালোবাসি।

খেলা করতে এলে, তারপর বাসতে,
তারপর বাসো না, ঘৃণা উগরোও।
কিসের ঘৃণা ভেবে দেখেছো?

ঠিক আমার আমিত্বকে তুমি সহ্য করতে পারো না।
আঙ্গুল তুলে বললে, “তুমিই আদতে কর্কট”।
বেশ তো, তাই না হয় হলো।

কিন্তু, সেদিনের সূর্যাস্ত দেখে যখন লিখলে,
“কমলা সূর্য চত্বর ছাড়ালো...
সেদিন ক্যামেরার লেন্সের সব ঝলক সিন্দুকে তুলে রেখেছি;
আপাততঃ তালা দেওয়া থাক।

ঘুরে এসো,
স্তিমিত হয়ে এসেছে চার্চের ঘন্টা,
সিঁড়ি উঠতে তোমার হাঁফ, তোমার কষ্ট,
অথচ আমার কোনো আজগুবি স্বপনের সেই চার্চ তুমি খুঁজে বার করবেই।

মেলাচ্ছি, অঙ্কে কাঁচা ছিলাম না কখনো,
অথচ, এই অঙ্কের উত্তর, কিছুতেই যেন মেলে না।
ওই তো দক্ষিণ দিক থেকে ছুটে আসছে শেষ অঙ্কের ড্রপসিন।

ড্রপসিন... প্রেক্ষাগৃহের আলো তো জ্বলে উঠলো না ফের!
উপেক্ষা, তাচ্ছিল্য, তামাশা তোমার জীবনে
ছায়া তোমার পাশেই হাঁটে তো?


সওদা 

কিছু কিছু ছন্দপতন ব্যাংলাফ দিয়ে
একেকটা রোদপুকুর বাজারি করে বলেছে
ফের উঠেছ, এবারে কার পালা?
একঘেয়ে শঙ্খচিল টেক্কা দিলেও নির্বিকার
পসরা সাজিয়ে বোসো মাঝহাটে।

জ্বোরো দেওয়াল পরতে পরতে
দামী খসিয়ে এক্কেবারে দইভাত, কুমোর
একটাও সানকি রাখেনি; অগত্যা
মেলামাইন, অগত্যা কোলছাড়া বিরতিতে
সেগুন ভেলভেট মেশা কামড়।

মাঝামাঝি কাঁচবাহারে টাকাগাছ
হলদেটে মরা জল, দেখেশুনে
আবার এসো কিন্তু,
তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না...
বুঝলে? তোমাকে প্রয়োজন
বড় বেশি রকমের।


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন