পঞ্চম বর্ষ / অষ্টম সংখ্যা / ক্রমিক সংখ্যা ৫০

বুধবার, ১ নভেম্বর, ২০১৭

ফেরদৌস নাহার

পাওয়া না পাওয়া


তুমি যেভাবে ভালোবাসো
তার কী কারণ থাকতে পারে
খুব ধাঁধা হয়ে ঘুরপাক খায় চারপাশে
আমি বুঝি না
তোমার পোশাকে যেদিন দুপুর রোদ পড়েছিল
সেদিন চমকে উঠে বলেছিলে, এ তো ঠিক তুমি  

কই তেমন তো কোনো ঘটনা ঘটেনি জীবনে
বোধিসত্ত্ব লাভের কোনো আয়োজনে অতিক্রম করিনি
তিব্বতের দালাই লামার গাঢ় রং চিবরের দ্যুতি 
মাখিনি কোনো রোদ যা থেকে দিতে পারি কিছু
তবু খুব মনে পড়ার সাথে সাথে বেজে ওঠে
তুমি যেভাবে ভালোবাসো
তার কারণ না জানাই বোধহয় একমাত্র কারণ হয়ে
উড়ছে ভূ-ভারতের আকাশে 


আগুনের আঁচ


সেখানে কিছু অগ্নিখরা দূর করার সন্ধানে
যেতে যেতে মনে পড়ল, কতদিন ঘুম নেই
দাউ দাউ আগুনের জিভ গ্রাস করে আছে
বৃষ্টিকালের ইতিহাস, আচমকা ফুঁপিয়ে ওঠা

পেয়েছি, না পাওয়ার আসেপাশে একাগ্র বাতাস
উসকে দিচ্ছে আগুনেরই আঁচ। এই তো পাওয়া
হাসপাতালে যে রোগীরা কোঁকাতে থাকে, তাদের  
শিয়রে এখনও দাঁড়িয়ে আছে একাগ্র নারী

খুব পরিশ্রম হয়েছে। নিদ্রাহীন অগোছালো সেই কষ্ট
নির্জন ঘন হয়ে নেমে আসে চোখের গভীর ঘরে                                           

নিমগ্ন, দাও কিছু মন্ত্রণা, না হয় না দিলেও দিও                                            

যাও, যাবারবেলা যাও! আমরা চিনি না পরস্পরকে



প্রতিবিম্বের অনুবাদ


সেই রেললাইন
বারবার সেই জলের কাছে, আমার সব মনে আছে
বিকেলের শান্তনীল চোখ জলে ফেলে বসে আছে আকাশ
কেউ একজন হেঁটে আসবে বলে তুমি দৌড়ে গিয়েছিলে
রেললাইন ধরেআকুল ওলটপালট হয়তো একেই বলে
সে বসন্তে লালজামা গায়ে সবুজ গাছেদের দিকে তাকিয়ে
আন্দামানে উড়ে যাওয়া নির্বাসিত পাখিগুলো বলেছিল-
সব ফাঁকি! জলের ছায়া হাসে, হাসতে হাসতে মায়া বাড়ে
মায়া থেকে উঠে দাঁড়ায় অজানা নৈঃশব্দ্য, ভেসে আসে হুইসিল
প্রতিবিম্বের অনুবাদ বারবার বলে, দেখে নাও আরো একবার
নির্জন ওয়েটিং রুমে কিছু ফেলে গেলে কিনা


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন