পঞ্চম বর্ষ / অষ্টম সংখ্যা / ক্রমিক সংখ্যা ৫০

বুধবার, ১ নভেম্বর, ২০১৭

অরুণিমা চৌধুরী

লাস্ট সাপার


শোনোআমার ঘরবাড়ি নেই
সামান্য আচ্ছাদন এই ঘাসপাতা
আমাকে অনুসরণ কোরো না

তোমাকে সাজাতে সাজাতে  নথ ভেঙে গেছে
ঢেউ এলে মুছে যাবে অবশিষ্ট রঙ...

এখন এই মুহূর্তে কপাল স্পর্শ করেছে আমার 
ক্ষতবিক্ষত আঙুল...  
এই চিহ্নটুকু থাক!

বেলা পড়ে এলে তোমাকে পাত পেড়ে দেবো
একগ্রাস শাকান্ন... বোসো

উঠোনের কোণায় নাবিক দাঁড়িয়ে আছে
আমাকে যেতে হবে

 যাবার আগে এসো তোমার হাত ধুইয়ে দিই...


ছেঁড়া তার


মধ্যদুপুরে তীব্র আগুন তাতের ভিতর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি
নিকৃষ্টতম মৃত্যুর দিকে

প্রথমত মৃত সত্ত্বা
মৃত আত্মা, মৃত মন ও মৃত সাবেকী অনুভব
 দ্বিতীয়ত মৃত বিশ্বাস,
 অতএব তৃতীয়ত মৃত দেহ

সমগ্র যৌনকীট কুড়ে কুড়ে খেলে  
এক একটা নিকষ অন্ধকার  দানা বাঁধে
জড়িয়ে ধরে, টুঁটি টিপে মারতে চায়
অথচ
আগুনের ভিতর, জ্বলজ্বলে আলো চুঁয়ে চুঁয়ে
ভেসে যাচ্ছে শরীরের সমস্ত রন্ধ্রপথ
এসমস্ত দ্বৈততা বিছিয়ে চওড়া রাস্তাটা
অচেনা
মৃত অথবা মৃত নই, জানি না
স্লিপিং পিলের গোছায় কোনো নাম লেখা নেই...
ডেট এক্সপায়ার্ড।


মানবী


গাঢ় কুয়াশা পেরিয়ে ঘুলঘুলি ফেরতা
একচিলতে আলো

পিতলের ঘুমন্ত মূর্তি এখনো অপলক চেয়ে
ঘুমোও দেবী এখনো প্রহরকাল সুপ্ত থাকো

নষ্ট দুয়ারে যে মাটি ফেলে গেছে পুণ্যবান
সে মাটিতে সজ্জিত হও, পাপ হরণ করো
তৃপ্তির উচ্চ শিখরে তোলো হে দেবী

জলপদ্মে বিষের ছোবল ধীরে ধীরে
আরো নীল হলে, ভুলে যেও 
মূর্তি গড়ার সময়  পিতা তোমার সর্বাঙ্গের
মাটি কীভাবে ছেনেছেন
ভুলে  যেও পিতাও পুরুষ

এইখানে অধিষ্ঠিত হও, এই জল বিষ
অস্বাস্থ্য অন্ধকার সাপটে নিয়ে
মেলে ধরো ত্রিনয়ন...

বিসর্জনের আগে জেনে রাখো এ সত্যই সার
দেবতা ধূর্ত পুরুষ


1 কমেন্টস্: