পঞ্চম বর্ষ / অষ্টম সংখ্যা / ক্রমিক সংখ্যা ৫০

বুধবার, ১ নভেম্বর, ২০১৭

মিগেল আঙ্খেল আস্তুরিয়াস

প্রতিবেশী সাহিত্য


মিগেল আঙ্খেল আস্তুরিয়াস-এর কবিতা              

(অনুবাদ : জয়া চৌধুরী)  


 


কবি পরিচিতিঃ

কবি, ঔপন্যাসিক, ডিপ্লোম্যাট সাংবাদিক মিগেল আঙ্খেল আস্তুরিয়াস ১৮৯৯ সালে গুয়াতেমালায় জন্মগ্রহণ করেন। শুরুর কয়েক বছর সেখানে কাটালেও পরবর্তীকালে প্যারিসে পড়াশোনা করতে যান। সেখানে ক্রমে সুররিয়ালিস্ট মুভমেন্ট-এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। হিস্পানিক সাহিত্যের মোদেরনিজমো  এবং   রোম্যান্তিসিজমো যুগ পেরিয়ে বিংশ শতকের বৈশিষ্ট্যের উজ্জ্বল উদাহরণ বুম যুগের আবির্ভাবের আগে তিনি কিছুটা মুখবন্ধের ভূমিকা নেন। তাঁর শ্রেষ্ঠ উপন্যাস এল সেন্যিওর প্রেসিদেন্তে না মিঃ প্রেসিডেন্ট। গুয়াতেমালার রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য সমস্ত জীবন নির্বাসিতের মতো বিভিন্ন দেশে ঘুরে কাটাতে হয়েছে তাঁকে। এরই মধ্যে দু’বার তিনি দুটি দেশে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও পালন  করেন। ১৯৬৭ সালে নোবেল পদকলাভ করেন সাহিত্যে। ১৯৭৪ সালে স্পেনের মাদ্রিদে প্রয়াত হন।


Invierno (শীতকাল)

ঝড়ের হাঁটু বেয়ে, গ্রে হাউন্ড আর পায়ের ছাপ ধরে ধরে
তোমায় অনুগমন করেছিলাম, আমার উপস্থিতিতে নারী
নক্ষত্রের ক্ষিপ্র আলোয় যেত বাহিত হয়ে  
অনুভূতি উৎসারিত অনুভাব গহীনে যে পর্যন্ত অনুপস্থিতি।

ঢুকেছিলে তুমি গহনে, ভালোবাসা, যত আত্মপরতা  
নোনাজলের বালুকণায় করেছিল অনিদ্রাযাপন
অনুবিদ্ধ হতে হতে নরক ওপরে নরক
আমার অদ্রাব্য তুষার নির্জনতা।

মাকড়সারা বিরাটকায় বৃষ্টি দিয়ে
জল ও ঝড় দিয়ে বোনে চলমান মাকড়সা জাল
পরিষ্করণের পরে তারা কোন আগামীর হবে?

কাচের পৃষ্ঠতল না ভাঙা,
অচল হয়ে গেলে কেমন হয়ে যাবে আমার দু’চোখ?
হয়তো ততদিনে মোচিত হবে তার সবটুকু কান্না।


Retrato de Abuelos  (দাদুদের ছবি)

ছেলেবেলার গোলাপি দিনগুলোর কথা মনে পড়ে,
ঠাম্মা ( দাদুরা কার হন? কুচোকাচাদের?),
রাতের বেলায় সাধারণতঃ, যখন উষ্ণ মিনতিকে
মনে হতো চাঁদের মিষ্টিভরা বাক্স,
পুরনো গপ্পো বলা। আজ আর একটাও জানা থাকে না।

ধীরে ধীরে দাদুর সিন্দুক খুলতে খুলতে,
ইচ্ছে করত দাদুর তরবারির ধারটায় চুমু খাই।
বহু বছর ধরে একটা পুরনো গ্রান্ডফাদার ক্লক,
আকাশের মতো নীল আর সাদা পতাকা একটা,
উদ্দীপনার তারা আর নেকটাইয়ের ফাঁস দড়ি পাহারা দিতাম।
ওইসব স্মৃতিগুলোকে আগলে রাখি যেগুলো আমায় পুরুষ হবার দায়িত্ব দিয়েছিল
আর পূর্বপুরুষদের ওইসব প্রতীকগুলো
আমার বাড়ির গল্প, আমার নামের মাহাত্ম্য,
আর আমি ওইসব কফিনগুলোকে পাহারা দিতে থাকি
বরাবর যারা খোলা পড়ে থাকে
বিয়ের গল্প, আমার মৃত দাদু ঠাকুমাদের।

         তার দুঃখ ছিল নরম
         লিলিফুলের রঙের মতো
         আর তার যন্ত্রণা চিনে নিয়েছিল
         প্রথম প্রেমিকপ্রেমিকাদের
         গ্রহেই যাদের বসবাস।

         যে কারণে এখন
         ওদের ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে।
         ওরা শুরু করেছে আরো
         কাছাকাছি থাকতে কখনও
         এত কাছাকাছি থাকে নি একে অন্যের।


অনুবাদক পরিচিতি :  

জয়া চৌধুরী রামকৃষ্ণ মিশন, গোলপার্কে স্প্যানিশ ভাষার শিক্ষক। গত কয়েক বছর ধরে তিনি অনুবাদ চর্চায় রত। মূলত স্প্যানিশ-বাংলা-স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদ করেন তিনি। প্যারাগুয়ে দূতাবাস থেকে ২০১৩ সালে একটি উপন্যাস ও একটি কাব্যগ্রন্থের দুটি অনুবাদ বই প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়াও ছোটগল্প সঙ্কলন ও নাটকের অনূদিত দুটি বই গত বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে। বেশ কিছু  সাময়িকী, সংবাদপত্র আনন্দবাজার পত্রিকা’, ঢাকা থেকে প্রকাশিত ভোরের কাগজইত্যাদিতে তাঁর বেশ কিছু অনুবাদ ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মঞ্চে নিয়মিত নাটক করেন তিনি, বাংলা ও স্প্যানিশ দুই ভাষাতেই।  সম্প্রতি মৌলিক কবিতাও কয়েকটি ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে।

0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন