পঞ্চম বর্ষ / অষ্টম সংখ্যা / ক্রমিক সংখ্যা ৫০

বুধবার, ১ নভেম্বর, ২০১৭

তাপসকিরণ রায়

ধোঁয়া ধোঁয়া


তোমার চকমকি প্রসাধনের পাশে ক্ষণিক বিশ্রাম লেগে থাকে।
এই রক্ত মাংসের দেহ ঘিরে ইচ্ছের কামনা বাসনা আমাদের থামিয়ে দিয়েছে--
একটি ঘরের মাঝে নিয়ম বন্ধনী আঁটা।
এখানেও ছিন্নতা আছে, আছে ঊর্ধ্বগতি আকাঙ্ক্ষা,
তোমার ঘের ছেঁড়া ব্যতিক্রমী ছন্নছাড়া মন--
জানি তোমার আমার বুকের একপাশে জমা আছে দুঃখদ্বীপ
ভাপের উষ্ণতায় ধিকি ধিকি জ্বলে যাবার অনিবার ইচ্ছেগুলি ধোঁয়া ধোঁয়া...
তবু স্বল্পায়তনের মাঝে কখনও বাঁধ ভেঙে গিয়ে কোথাও একাকার মোহনা !


একরাশ মেলা


ক্ষুদ্রতা থেকে বৃহতের দিকে যেতে যেতে একদিন আমি ডুবে গেলাম--
আমার রোশনাই ঘিরে আমি চোখ হারিয়ে ফেলি।
উড়ে যেতে চাওয়ার ইচ্ছে দেখতে দেখতে এক দিন বুঝি স্বাধীন হয়ে উড়ে যাবো !
গন্ধ, আকুপাকু শ্বাসের মধ্যে
ঘের ছিঁড়ে, দরজা পেরিয়ে, আমি আকাশ দেখি। 
ঘুমমগ্নতার মাঝে একদিন প্রলয় আসে -- ফেটে পড়ার ইচ্ছের অজস্র রঙ 
একরাশ মেলায় আমরা বুঝি ভেঙে পড়বো। সবকিছুর মাঝে দুর্দম উচ্ছ্বাসে
ফেটে পরবে আনন্দ আনন্দ
আমি হেসে কুটিপাটি হবো, ছড়িয়ে যাবো তোমার প্রেক্ষাপটে,
যেখানে মেলায় সাজ ধরেছে, রঙ ভালবাসা, এক রাশ বসন্ত পাপড়ি ছিঁড়ে ছিঁড়ে
সেজেছে আকাশ ভরা আনন্দ বিস্তার।


আনন্দমেলা


অন্য আরেক পাশ আছে -- কিছু ভালোবাসা, লাল ফুল,
কিম্বা সাদা শেফালির বোঁটায় বাদামী রঙ ধরা ছিল।
একটা হলুদ পাখি উড়ে এলো আমার হাতে--
হঠাৎ সে কথা কইলো ভালোবাসি ভালোবাসি বলে,  
উচ্ছ্বসিত আনন্দ আবার ছিটকে এলো বুকের ভেতরে,
একরাশ আনন্দমেলায় আপাতত আমি বুঁদ ডুবে আছি।


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন