পঞ্চম বর্ষ / অষ্টম সংখ্যা / ক্রমিক সংখ্যা ৫০

বুধবার, ১ নভেম্বর, ২০১৭

শ্রীজাতা কংসবণিক

রূপান্তর


আমাদের গরীব বাড়িতে
প্রতি রবিবার কবিতায় সার জল পড়ে
ফুল ফোটে শীতের বাগানে
আমরা যারা কবিতায় কথা বলি
অথচ কবি হতে চাই না কখনোই
তাদের জন্য আমি রেখে দিই
আমার এই শান্ত ঘরদোর, পুকুর আর একটা
বিজলী বাতির রাত।

আস্তে আস্তে কুয়াশা নেমে আসে বাগানের দিক থেকে
পায়ের ঘুঙুর শব্দে, মুখে অস্পষ্ট বেদনা নিয়ে
কী যে রহস্য শুনিয়ে যায়
আমি বুঝেও বুঝি না...
এভাবে মাধবীলতা এসে
এভাবেই বিদ্যুন্মালা, রাতের রাগিনী এসে
ছন্দহীন পংক্তি শুনিয়ে যায় আজ সাতাশ বছর...
আর, আমার গরীব বাড়িটি
প্রতিদিন একটু একটু করে, শস্যের চারণক্ষেত্র থেকে
আমার সঙ্গমভূমি হয়ে ওঠে


সংশোধিত প্রস্তাবনা


চলে যাওয়া বসেন্তের পথে, মনে পড়ে, দেখা হয়েছিল
আমার মৃত্যুর সঙ্গে, মুখোমুখি
অসম্মত দাবি দাওয়ার ভিড়ে ঘূর্ণি উঠেছিল
বৃত্তাকার জমির কেন্দ্র বরাবর।
হাতে সময় নিতান্তই অল্প, তাই, সেসব অলক্ষ্যে রেখে
প্রস্তাব ছিল সুবর্ণ নদীর চরে একদিন চড়ুইভাতি
চৈত্র পূর্ণিমাতে
অথবা কোপাই'তে একসাথে ডুব দিয়ে দুজনে পড়ব
জীবনানন্দ...
মৃত্যু পাগলের ধূলো, মাখামাখি মাথায় পাঁজরে
ভালোবেসে খুঁজে নেয়
‘সমব্যথী’ জীবনের রক্ত মাংস ঘ্রাণ!
তেমনি এক চৈত্রের সন্ধ্যায়
আমি পড়ে নেব বিবাহের সংশোধিত প্রস্তাবটি।
চলে যাওয়া বসেন্তের পথে, মনে পড়ে, দেখা হয়েছিল
মৃত্যু তোমার সঙ্গে, অন্তহীন...


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন