পঞ্চম বর্ষ / নবম সংখ্যা / ক্রমিক সংখ্যা ৫১

শুক্রবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৭

পৃথা রায় চৌধুরী

যাপন

টানা তিরিশ দিন লম্বা চিঠিতে লেখা থাকে,
খাবার টেবিল বা টিভি স্ক্রিনে ধুলো জমে নেই
দুয়োরে পাপোষের ছেঁড়াটা একটু বড়;
তুলসি চারা বেশ মুখ বাড়িয়ে দিয়েছে
চেনা আনাগোনা দেখার আশায়।

কঠিন কোমল ছোঁয়ার আশায়, শিশু তারা
ঘুমে কথা বলে ওঠে, অথচ ভুলে যায় মা ডাক।

কামারশালার হরেক ধ্বনি সুরেলা হতে হতে
বেঁচে থাকার মূল মন্ত্র,
তুমুল বৃষ্টিতে টবের চারা বলে না পিপাসার কথা।

আমার দিন গুজরান তোমায় দিলাম।


নিরীহ

মনে মনে জানো,
তোমার কাছে একটা আয়না আছে
তাতে নিজের মুখ তুমি দেখো ইচ্ছেমতো


ভয় পাচ্ছ,
আয়নারও মগজ হয় জানলে
পরখ করে বাতিল করতে...

আয়না বোবা,
যা চাও, তাই দেখায়
নামটা ভুল জানতে,
আসল নাম... ভালোবাসা।

একখণ্ড কাচের কাছে হেরে যাওয়া নামঞ্জুর
তাই ভেঙ্গে ফেলতে পিছপা হবে না;
জেনে রেখো, আহত টুকরোই ঘটাতে পারে
তোমার ভবিতব্যে সর্বাধিক রক্তপাত।


অবশিষ্ট

ডিঙ্গা দিয়ে নিশ্চুপ বলে গেছে, কথা ভরে ভেসে যেতে
কুসুমভোর জলে লুটোপুটি করে, চিনে নেয় পিচ্ছিল যাত্রাপথ।
একা ছেড়ো না ওকে, ছেড়ো না তোমার ছায়াকে।

অপেক্ষমান ক্ষত একদিন লিখে ফেলবে, দ্রুতগামী কোষ বিভাজন
সমান্তরাল দৌড়ে খুনপিয়াসী, উদাসীন ছড়িয়ে পড়ে পালক
ঠোঁটেরা ব্যস্ত ভেজা পাতাদের সমাচার নিতে, কেমন আছো?

সংবাদ শিরোনামে, বরাকর এক নদীর নাম... ছিলো
রংবাহারি অস্থি, মজ্জা, পিঠ ছাপানো মেঘ, জি টি রোড ছুঁয়ে।


সামনে রেখে গেলো রোদে দেওয়া আচারের শিশি,
ধোঁয়াটে মূর্তির পাথর হাতে ভাঙ্গা কলম


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন