পঞ্চম বর্ষ / নবম সংখ্যা / ক্রমিক সংখ্যা ৫১

শুক্রবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৭

দীপ্তি চক্রবর্তী

মেয়েটা

মেয়েটার ঠোঁটে কালসিটে দাগ
বসন্ত কবে যেন চুমু দিয়ে গেছে
হাড় হিম ঠান্ডায় স্ট্রিট লাইট আলো
কিছু খুঁজে চলে সারারাত মিছে

ডিপ ফ্রিজে রাখি তোমার প্রশ্বাস
ঠান্ডার মাত্রা মাপি রাত্রিদিন
একদিন আসবেই বসন্ত
আমি জেগে  প্রহর গুনি অনন্ত

মেয়েটা দাঁত দিয়ে নখ খুঁটে চলে
কোনোদিন বাড়ি ফেরার পথে
বসন্ত সন্ধ্যা মুছে নিয়েছে
তার সমস্ত দুপুরের  ক্লান্তি

ভর্তি ফলে নুয়ে আছে শাখা
নিস্তব্ধ দুপুরের আলসেমি মাখা
উড়ে যায় এঁটো খাওয়া কাক
পড়ে থাকে নির্বাক গণিতের সমীকরণ


বিষাদ

আমি মনের জানালায় বিষাদ মাখি
জমা প্রেম আর প্রতিলিপির হাত ধরে
দেখতে থাকি সারা দুনিয়া

শুধু আমাকে পিছনে ফেলে
শহর থেকে বহুদূরে নিরুদ্দেশের পথে
পাড়ি দিতে থাকে একটি টালমাটাল স্বপ্ন


রঙিন খাম

সন্ধ্যা নামতে দেরি নেই
পড়ন্ত বিকেলের রঙিন খামে গুছিয়ে নিয়েছি
কিছু নাম না জানা সারাদিনের রোদ্দুর

দূরের পাখিদের ঘরে ফিরতে দেরি হলে
সন্ধ্যাও খানিক থমকে যায়
চড়ুই পাখির ঘুলঘুলি সংসারে
এক গুচ্ছ আভিজাত্যবোধ বেঁচে থাকে আজীবন

যে ছেলেটা রোজ গামছা কাঁধে
গাছের কোটরে কোটরে টিয়া খুঁজে বেড়ায়
সে জানে না শেফালির মিষ্টি সুবাস
বয়ে নিয়ে আসে বর্ষসেরা আগমনী বার্তা

তবুও দিন ঘুরে বছর আসে
প্রতিটি নিঃশ্বাসের সাথে বাড়তে থাকে রক্তচাপ
অবশেষে একদিন ডানা মেলে দিতে হয় আপন কক্ষপথে



0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন