পঞ্চম বর্ষ / নবম সংখ্যা / ক্রমিক সংখ্যা ৫১

শুক্রবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৭

স্বপন রায়

অপ্রকাশিত’৯৬


(১)

বর্ষা একটা ঋতুর নাম কেন, বলতে বলতে হেসে ফেলেছিলে
নিচে মর্ত্য-মুমফলি
তুমি এক পুনরুত্থান, টুলের ওপর দাঁড়িয়ে
প্রকাশিত অপ্রকাশিত সবই ওই নিচে
ওই টুল
ওই তুমি কিছু মেঘলা এমন যে এবার গড়িয়ে পড়বে মুচকিলচক দেদার
হরপ্পা মহেঞ্জোদাড়ো
কত সভ্য ছিল ওরা, অসভ্য লতে লতে আমায় কি যেন দিলে

বিদ্যুৎপ্রভ তকনিকি হাঙ্গামা, কি যেন দিলে না...

(খাজিয়ার, হিমাচল প্রদেশ/২৭-০৫-১৯৯৬)

(২)

বাসাবদলের পরে ঝাউ,অনিবার্য বাঁক, এসে গেল।মহিলাদের মেয়ে বলার ঋতু সেই কবে! ফিলামেন্ট ওই রঙের রিয়া-কি-রাগিনী জ্বালাবে। সিমে রাখা আলুলায়িত তোমার ব্রুট, তোমারই পারফিউম! একটা উতরোলে এসে মনে হল এলাম, দেখা গেল কাফেটেরিয়ায় জায়গা নেই

ঝাউ পাহাড়ে উঠলেই দেবদারু।গড়িয়ে যাওয়া খাদের নীচে জলকাবারি কেনাবেচা, চোখে ফুটছে চোখেই ফিরে যাচ্ছে! যাকে বলি, রোদের চাল আর ছায়ার মিল

বাঁক গুনতে গুনতে আমারো কয়েকটা দিন চলে গেছে, কিছু ডাকাডাকির পাখি, আচমকা দূরিয়ে ওঠা সরোবর, আমাদেরও কি দেখা হল একই জায়গায় দুবার, শাদাসিধে দু দুবার...
(খাজিয়ার, হিমাচল প্রদেশ/২৭-০৫-১৯৯৬)


(৩)

গানে সুদূর বাজছে
কুঁচ পড়ার শব্দে আঙরাণো মিষ্টি সমবেদনা

স্তেপ থেকে স্তেপান্তরে এইতো হল শুরু আজ
গানে কাজলা আরশি
পানকে তোলা চমনবাহারে কি ভাবে যেন রাত
এই ফাজিলের কতটা আর শিস

জিনখারাপি রঙও এসে গেল রেফের একটু ওপরে
ঠিক গান নয়,ধরো মিশন
এলো, তুমিমাত্র হয়ে জড়ালো
আমায় আমায়

চাঁদ আর কি করবে, দেখছে...

(ডালহৌসি, হিমাচল প্রদেশ/২৮-০৫-১৯৯৬)

(৪)

শুধু হেয়ারপিন আটকে রাখে, ওড়ে চুল, বাঁকে বাঁকে চাউনি আমার উপত্যকা।আগ্রহ শুধু নিয়ম, অনুগ্রহ তোমার তাকানো।তুমিলিখেছি, তোমায় লিখিনি!ঝর্ণা ফোটাচ্ছে পাহাড়, নদি সেক্সের কাছাকাছি প্রায়,নামতে নামতে।জুলিয়া রবার্টস কে ভাবো, কিছু শেষ না হতেই গাড়ির দরজা খুলে তাকালো, রুদ্ধশ্বাস, মনে হবে এইতো শুরু ওপেন-ডোর পলিসির...

পালকাঙ্গি ভ্রুণের হাসি,পাশে পাশে।তুমি আর তোমার উন্নয়ন, আমি আর আমার অবনমন, মাঝখানে দুপুরনেভা সড়কের ছায়া যেন ইরেজার, আমার পাপ মুছে দিচ্ছে, মুছে দিচ্ছে আচমকা গর্জন বন্দুকের

আমি নিলাম, তুমিও নিলে সব হারাবার দাগগুলো, সেদিন বিকেলবেলায়...
(ধরমশালা, হিমাচল প্রদেশ/২৩-০৫-১৯৯৬)



1 কমেন্টস্: