পঞ্চম বর্ষ / নবম সংখ্যা / ক্রমিক সংখ্যা ৫১

শুক্রবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৭

অভিষেক ঘোষ

যদি হাল্কা হয় শব্দ

আমাদের তো সেই দেখা হলো আংশিক মেঘলা আকাশের পাশে পাশে যতক্ষণ না  যান্ত্রিকতা ধুয়ে মুছে আসে হিসেবের খাতা থেকে ন’টা দশটার নিঃশ্বাস প্রশ্বাস থেকে অভ্যন্তরীণের জানালা দরজা ঠেলে নিত্য বেড়িয়ে আসার আগে ভুলে যাওয়া সেই  মন থেকে যা আমাকে তোমাকে চিরকাল ভুলিয়ে রাখতে পারে যে আমরা রোজ একই ভাষায় কথা বললেও, শুনতে কেমন আলাদা আলাদা লাগে, তবু সেই আলাদা আসলে আলাদা না তোমার মুখ চেনা রাস্তার পাশে রিক্সাভ্যনের চাকার তলায় শুয়ে থাকা দর্জির সুতো, যার উপর দিয়ে আমরা হেঁটে যাই সেতু ভেবে, তবু সেই সেতু মাথায় নিয়ে চলে যাওয়ার পর এদিক আর ওদিকে দাঁড়িয়ে থাকা আংশিক মেঘলা আকাশে ধিরে ধিরে মেঘ ঘন হয়ে আসে, আর আমরা গহীন বনের পাতায় ফেলে রাখি কিছু শব্দ যা বৃষ্টি পড়লে আবার ভেসে উঠতেও পারে... 


কালো ব্যাগ

গোপন আসলে কোনো গোপন কথা নয়।
আমার গোপন ছিল একটা কালো ব্যাগ।
আমার গাঁজার প্যাকেট, তিনটে বন্ধ ব্যাঙ্কের বই, মিউচুয়াল ফান্ডের দু’ মাস দেওয়া রসিদ লুকিয়ে রাখি সেখানে।
ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষার আগে আমার মাথায় কবিতা এসেছিল। তাই বি কম আর হলো না আমার দ্বারা।
কিছু ছবি ছিল, আজ থেকে ছ’ বছর আগে পুড়িয়ে ফেলেছি,
তখনও আমি খাতায় লিখতাম, আজও খাতায় লিখি।
কোনো পত্রিকা আমার কবিতা ছাপে নি।
আমার তাতে খুব দুঃখ হয়েছে। সে দুঃখ গোপন,
গোপন আসলে কোনো গোপন কথা নয় যেহেতু,
তাই সবাইকে বলি,
আমার ঐ কালো ব্যাগে, আজো আমি আমার ক্লাস টু লুকিয়ে রেখেছি
যাকে অনেক দিন পর, ঘুম থেকে উঠে খুলে দেখলে দেখা যায়,
শুধু আমার ক্লাসটাই পড়ে আছে এখনো,
কোনো ক্লাসরুম নেই আর।  


প্রতিটি বালির চোখ আছে একটা

বালিরও এখন চোখ তৈরি হয়েছে। তার চোখে কেউ হেঁটে যায় সমুদ্র স্নান
কালিরও এখন বর্ণ তৈরি হয়েছে, যাতে করে উড়িয়ে দেওয়া যায় না নিঃস্বফুল,
ঝুলন্ত বাগান...
নীল প্রজাপতির গায়ে লেখা আছে হলুদের ঘ্রাণ, ও বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার আগেই,
শব্দ উধাও... মন্ত্র পাঠ, ভুল বানান।
ও তারই জেরে জেরবার হওয়া ব্রিজের নীচে, কান্নার পাখিদের যেখানে প্রতিবেশী এসে তাড়িয়ে দিয়ে যান,
অন্য কোনো মফস্বলের ফসল তোলা পঙ্গপালের ঢেউয়ে উড়িয়ে দেওয়া
ছেলের মেয়েদের বিকেলের খেলাপাঠ জঙ্গল পথে হারিয়ে যাওয়া খেলনা গাড়ি
যার উপরে বসে ওড়না ওড়ানো মৌমাছির ডানায় ওরা হুলের ছিটে, নিম্নপৈত্রিক বসতবাড়ি...
হারিয়ে চলে যায়, অনেক আগে, যে আগে আমি ছিলাম না তোমার সাথে, তুমি ছিলে না আমার সাথে
সাথের সাথে সাথে ছিল না, বাক্য তবু কেন ছিল শব্দের সাথে, তাই ভেবে ভেবে আজ আর বালির
চোখ মুছিয়ে দিতে যারা এগিয়ে যান,
তাদের বারণ করি। বলি বালিকে চোখ বুঝতে দাও,
এমনি এমনি সমুদ্রও বন্ধ হয়ে যাবে।


2 কমেন্টস্: