পঞ্চম বর্ষ / নবম সংখ্যা / ক্রমিক সংখ্যা ৫১

শুক্রবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৭

তাপসকিরণ রায়

নগ্নতা

আসলে নগ্নতার মতো পবিত্রতা আর কিছু নেই
মাথার আকাশ আমাদের দিগদর্শন
অরণ্য কথা বলে
তোমার সখ্যতায় বুঝি এই বনজ্যোৎস্না নামে 

আমরা বহুদূর সরে গেছি
মনের কুন্ডলায়নে
একছত্র অন্ধকার
জীবনের ছিন্নবস্ত্র তোমার দেহ
চামড়ার নীচের মোলায়েম রক্ত
অথচ ভয়ংকর কিছু ঘটে গেলো
রক্তের মাঝে তোমার আচমকা চীৎকার
উঠে আসে
অথচ এই রঙ আসলে সবুজ ছিল
সময়ের ব্যবধানে ঝরে পড় তুমি, কখনো অকস্মাৎ পতন
কেউ জানবে না তোমার ক্ষতচিহ্ন
নির্ঝরের স্বপ্ন ভেঙে কখনো তোমার চুরমার দেহ!
যখন ঊর্ণনাভ জন্ম নিলো, অরণ্য সরে গেছে দূরে
অসহ্য আলোয় ঝলসে ওঠে তোমার মুখ তাবড় তাবড় ঊষর ভূমি
একটা দেহের বারবার ভাঙাগড়ার মাঝে তোমার বস্ত্রহরণ  


পোড়া গন্ধ

তুমি মরে গেছো
একটা বাঘের মুখ জন্ম নিচ্ছিল
তোমার ক্ষতচিহ্নগুলি তোমার নগ্নতা
উদরে আকাশ ঝরে পড়ল 
রক্ত মাংস উদরপিণ্ড থেকে ধোঁয়ার পোড়া গন্ধ
এবার তুমি ঘুমিয়ে পড়ছ
তোমার ওপরে তখনও উন্মুক্ত নিয়ন জ্বলে আছে
আঁধার থেকেই আসলে আমাদের জন্ম
রাত্রি আসলে স্নিগ্ধ,
উন্মত্ততার আলোড়নের মধ্যে জংলী ভূমির বীজ পোঁতা হচ্ছে
ঋতুচক্র দূরে সরে যাচ্ছে
বিধ্বস্ত হাতলের মাঝে আগুন ঝলসানো মুরগী


তোমার পাখা

ঝলসানো মাংস থেকে একটা বাঘ উঠে এলো
বনের রঙ ক্ষয়ে ক্ষয়ে জন্তুরা বেড়ে উঠছে
অন্যদিকে বুভুক্ষু রোদ
অনায়াসে অরণ্য চিরে ঢুকে পড়ছে প্রবাস
কাঠিন্যে পুড়ে যাচ্ছে হরিত প্রান্ত 
খরায় জ্বলে যাচ্ছে বন বনান্তর--
আর তার মাঝে ঝরে যাচ্ছে তোমার পাখা
নিজেকে নিয়ে তুমি লুকিয়ে আছো
আগলে রাখতে রাখতে তুমি একদিন চমকে উঠলে  


দ্রৌপদীর বস্ত্র

নিজের নগ্নতায়
কখন যেন ক্ষতচিহ্ন হয়ে আছে গোপন
তুমি একান্তে নিজেকে জড়িয়ে
তারপর ভাবনা হলো দ্রৌপদীর পাটবস্ত্রের
শত প্যাঁচেও খুলল না তার শাড়ি
যার সহস্র বন্ধনীর মাঝে বারবার আবরণ আভরণে ঢেকে ঢেকে
তুমি অন্ধকারের মাঝে আলো হারিয়ে ফেলেছ
আর আলোর মাঝে কষ্ট অন্ধকার জুড়ে গেছে 

অরণ্য বহুদূরে
মাথার ওপর ফালি ফালি আকাশ
পাংশু শরীরের কাপড় যতই জড়াও, কম পড়ে যাচ্ছে 



 
  

  

0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন